মেহেন্দিগঞ্জে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড: ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা।

লেখক:
প্রকাশ: ৩ সপ্তাহ আগে

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ পৌর এলাকায় ২০ বছর আগের পাওনা টাকাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এক সালিশ বৈঠকে সংঘর্ষে খোরশেদ সিকদার (৫৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঈদের পরদিন বিকেল ৪টার দিকে পৌরসভার দক্ষিণ চরহোগলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত খোরশেদ ঢাকার হাজারীবাগ ট্যানারির কর্মী ছিলেন এবং ঈদের ছুটিতে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি এসেছিলেন।

ঘটনার বিবরণ:
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই দশকে আগের ২ লাখ ৫২ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য এসআই নাজমুল ইসলামের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠক চলছিল। বৈঠকের ভিডিও ধারণ করা নিয়ে উপস্থিত দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের সামনেই খোরশেদ সিকদারের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা তাকে বুকে, পিঠে ও সংবেদনশীল অঙ্গে উপুর্যুপরি আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

আহত ও মামলা:
এই সংঘর্ষে খোরশেদ সিকদারের ভাই তোতা সিকদার, মোকশেদ সিকদার এবং স্বজন সানজিদা বেগম ও রাকিব সিকদার গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে নাছিমা বেগম বাদী হয়ে মেহেন্দিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সেনাসদস্য নাঈম হাওলাদারকে (উজ্জ্বল)। এছাড়া তার বাবা ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর হাওলাদারসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ:
ঘটনার পর অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর হাওলাদারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে পৌর বিএনপি। সদস্য সচিব রিয়াজ উদ্দিন চৌধুরী এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অন্যদিকে, মেহেন্দিগঞ্জ থানার পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এজাহার গ্রহণ করা হয়েছে এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পরিবারের আহাজারি:
ঈদের আনন্দ বিষাদে রূপ নেওয়ায় ভেঙে পড়েছে খোরশেদ সিকদারের পরিবার। নিহতের মেয়ে নাছিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বাবার সঙ্গে ঈদ করার আশায় ঢাকা থেকে বাড়িতে এসেছিলাম। কিন্তু আমাদের ঈদের আনন্দ কেড়ে নেওয়া হলো। আমার বাবার হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই।”