সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মদিনায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আরিফ হোসেনের মরদেহ আর দেশের মাটিতে ফিরছে না। দূর প্রবাসেই চিরনিদ্রায় শায়িত হতে হচ্ছে তাকে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর পবিত্র মদিনার মসজিদে নববীতে জানাজা শেষে তাকে ঐতিহাসিক জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে।
ফলে পরিবারের শেষ আশা—প্রিয়জনের মরদেহ একবার দেশের মাটিতে এনে দাফন করার—সেটিও আর পূরণ হলো না।
উল্লেখ্য, গত ১০ মার্চ সৌদি আরবের মদিনায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান আরিফ হোসেন। তবে দুর্ঘটনার আগের প্রায় ১৫ দিন ধরেই পরিবারের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ ছিল না। এতে পরিবার আগে থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিল। পরে হঠাৎ করেই তার মৃত্যুর খবর পৌঁছালে স্বজনদের মাঝে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সংসারের হাল ধরতে মাত্র দুই বছর আগে প্রবাসে পাড়ি জমান আরিফ। বিদেশ যাওয়ার আগে তিনি উলানিয়া বাজারে কসমেটিকসের ব্যবসা করতেন। স্বপ্ন ছিল পরিবারকে একটু ভালোভাবে চালানো এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে দেওয়া।
প্রায় ছয় বছর আগে একই এলাকার কেয়া বেগমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাদের ঘরে রয়েছে তিনটি ছোট সন্তান। বাবার মৃত্যু যে কত বড় শূন্যতা—তা এখনো বুঝে উঠতে পারেনি অবুঝ সন্তানগুলো।
স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে বারবার ভেঙে পড়ছেন স্ত্রী কেয়া বেগম। তার একটাই আর্তনাদ—
“আরিফ মারা যেতে পারে না, আমি ওর সঙ্গে কথা বলতে চাই…”
একদিকে প্রবাসে চিরনিদ্রায় শায়িত স্বামী, অন্যদিকে তিনটি অবুঝ সন্তানের ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে পরিবারটি। আরিফের মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
