মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার ১০ নং আলিমাবাদ ইউনিয়নে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা মানুষের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে নানা ভোগান্তিতে। পথে পথে বাধা, অতিরিক্ত ভাড়া, ভাঙা রাস্তা ও যোগাযোগ সংকটে যাত্রীরা পড়ছেন বিপাকে।
ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ রাজধানীতে যাতায়াতের জন্য ভোলার ইলিশা নৌরুট ব্যবহার করেন। এবারও ঢাকাসহ অন্যান্য জায়গা থেকে আসা মানুষ এই রুটে নেমে অটো বা হুন্ডা খুঁজতে গিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। অনেকে জানিয়েছেন লঞ্চ থেকে নেমে প্রায় এক কিলোমিটার হেঁটে অটোতে উঠতে হয়। তাও পাওয়া যায় না অটো রিক্সা,
হাতে গোনা কয়েকটি অটো থাকলেও সেগুলোতে আদায় করা হচ্ছে চার থেকে পাঁচগুণ বেশি ভাড়া। যেখানে ইলিশা থেকে জনপ্রতি মাঝকাজি বাজার পর্যন্ত ভাড়া ৬০ টাকা হওয়ার কথা, সেখানে যাত্রীপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
অটোচালকরাও জানাচ্ছেন, বিদ্যুৎ না থাকায় তারা নিয়মিত রাস্তায় নামতে পারছেন না। এতে হুন্ডা চালকেরা ভাড়া বাড়িয়ে নিচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক হুন্ডা চালক জানান, “আমরা অধিক দামে তেল কিনছি, তাই ভাড়া বাড়াচ্ছি। আমাদের ঈদ বোনাস নেই, তাই যাত্রীর কাছ থেকে কিছু নেওয়া বাধ্যতামূলক।”
ভোগান্তি পরিবহনেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশেষ করে ভাঙা রাস্তার কারণে সাধারণ মানুষ আরও সমস্যায় পড়েছেন। মাছকাজি বাজার থেকে চরমহিষা খেয়াঘাট এবং মাছকাজি বাজার থেকে গাগুরিয়া বাজার পর্যন্ত দুটি রাস্তা সম্পূর্ণরূপে ভাঙা, ফলে গাড়ি চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
গত রাতের মৌসুমি ঝড়ে পুরো ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। এতে গ্রামে জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। মাছকাজি বাজার এলাকায় অবস্থিত টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে রবি, এয়ারটেল ও বাংলালিংক ব্যবহারকারীরা যোগাযোগ করতে পারছেন না। অনেক স্থানে ওয়াই-ফাই সংযোগও বন্ধ রয়েছে।
ইউনিয়নের গাগুরিয়ার রেশমা আক্তার জানান, “৫ সদস্যের পরিবারের সঙ্গে ঢাকা থেকে এসেছি, এতে খরচ হয়ে গেছে প্রায় চার হাজার টাকা। গ্রামে এসেও শান্তি নেই, বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক নেই।”
তবুও অনেক মানুষ জানাচ্ছেন, প্রিয়জনের সঙ্গে মিলিত হওয়ার আনন্দ সব কষ্টকে ভুলিয়ে দেয়। সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “যতই কষ্ট হোক, বাড়িতে এসে প্রিয়জনের মুখ দেখলে সব কষ্ট মিলিয়ে যায়। আলহামদুলিল্লাহ, বাড়ি ফিরে এসেছি।”
