
মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বসন্তের আগমন প্রকাশ পেয়েছে আমের মুকুলে। আলিমাবাদ, চর গোপালপুর, শ্রীপুর, জাঙ্গালিয়া ইউনিয়ন ও বিদ্যানন্দনপুর এলাকায় বসতবাড়ির দেশি আমগাছগুলোতে মুকুল ফুটে উঠেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও স্বস্তির আবহ সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা জানান, মেহেন্দিগঞ্জে মূলত পারিবারিক চাহিদা মেটানোর জন্য বাড়িতে আমগাছ লাগানো হয়। আলিমাবাদ এলাকায় রাম বাবুর ঘেরে একটি ছোট আমবাগান থাকলেও তা ব্যতিক্রম। অধিকাংশ মানুষই নিজের পরিবারের জন্যই আম ফলায়, বাণিজ্যিকভাবে নয়।
আলিমাবাদ এলাকার এক স্কুল শিক্ষক বলেন, “এখানে কেউ বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করে না। আমাদের বাড়ির আমগাছগুলো শুধু পরিবারের জন্যই।”
চর গোপালপুরের এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য বলেন, “প্রতিবছর নিজের গাছের আম খাওয়াটাই সবচেয়ে ভালো লাগে। বাজারের ওপর নির্ভর করতে হয় না।”
শ্রীপুর এলাকার এক সাধারণ গৃহস্থ জানান, “ভালো ফল হলে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া যায়, এটাই আমাদের আনন্দ।”
স্থানীয়রা আশা করছেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবারও ভালো ফলন হবে। মেহেন্দিগঞ্জের ১৬টি ইউনিয়নে পরিবারভিত্তিকভাবে আমগাছ রাখা হয়েছে। যদিও চাহিদা মেটাতে কিছু মানুষ বাজার থেকে আম কিনে খাওয়েন, তবু নিজস্ব আমগাছ থাকায় মানুষদের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ ও আত্মনির্ভরতার অনুভূতি বিরাজ করছে।
মেহেন্দিগঞ্জের গ্রামাঞ্চলে বসন্তের এই রূপায়ণ কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নয়, স্থানীয় মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিলেমিশে তাদের জীবনে ছোট্ট সুখের অনুভূতি যোগ করছে।