1. live@www.mehendiganjpratidin.com : www.fnnews24.com www.fnnews24.com : www.fnnews24.com www.fnnews24.com
  2. info@www.mehendiganjpratidin.com : - :
   
শুক্রবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২৬, ০১:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আলিমাবাদে রাতের আধারে ঘরের সিঁধ কেটে মোবাইল ও স্বর্ণালংকার চুরি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেহেন্দিগঞ্জ ছাত্রসংগঠন DUSAM-এর সহ-সভাপতি নির্বাচিত মিজানুর রহমান বরিশালে প্রবীণ সাংবাদিক মোঃ হোসেন শাহ’র ২২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বরিশাল-৪ আসনের এমপি প্রার্থী কে এই মাওলানা আব্দুল জব্বার ? ‎ মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা সীমান্তবর্তী মেঘনায় জেলের ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ ৪ সৌদি আরবে ৫ দিন ধরে নিখোঁজ মেহেন্দিগঞ্জের সন্তান মেহেদি হাসান। ৩নং চরএককরিয়া ইউনিয়ন’র ১ নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন। এই শীতে ভ্রমণের জন্য সেরা বরিশাল | বিস্তারিত ভ্রমণ গাইড মেহেন্দিগঞ্জে বিএনপির আয়োজনে খালেদা জিয়ার স্বরণে শোকসভা। ১৪ নং শ্রীপুর ইউনিয়নে গণসংযোগ করেছেন হাতপাখা মনোনীত প্রার্থী। এছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের।

এই শীতে ভ্রমণের জন্য সেরা বরিশাল | বিস্তারিত ভ্রমণ গাইড

IK IMRAN KHAN
  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারী, ২০২৬

: শীতের সকালের মিষ্টি রোদ, কুয়াশাচ্ছন্ন নদী আর দিগন্তজোড়া লাল শাপলার সমারোহ—এই সবকিছুর দেখা পেতে চাইলে আপনাকে পা বাড়াতে হবে বাংলার ভেনিস খ্যাত বরিশালের পথে। প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের সেই রূপসী বাংলার প্রকৃত স্বাদ পেতে শীতকালই হলো বরিশাল ভ্রমণের আদর্শ সময়। যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে কোলাহলমুক্ত পরিবেশে সময় কাটাতে বরিশালের কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই বিস্তারিত গাইডে আমরা জানব বরিশালের দর্শনীয় স্থান, যাতায়াত ব্যবস্থা এবং থাকা-খাওয়ার আদ্যোপান্ত।

কেন শীতকালই বরিশাল ভ্রমণের সেরা সময়?
বরিশাল মূলত নদী ও খালের শহর। বর্ষাকালে নদীপথের সৌন্দর্য থাকলেও ঘোরার ক্ষেত্রে কিছুটা বিড়ম্বনা থাকে। কিন্তু শীতকালে বরিশালের প্রকৃতি এক শান্ত ও স্নিগ্ধ রূপ ধারণ করে। গ্রামের মেঠোপথ দিয়ে হাঁটার সময় গাছিদের খেজুর রস সংগ্রহের দৃশ্য আপনার চোখে পড়বে। প্রতিটি বাড়িতে চলে শীতের পিঠার উৎসব। এছাড়া বরিশালের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ‘সাতলা শাপলা বিল’ এবং ‘ভাসমান পেয়ারা বাজার’ এই সময়েই তার পূর্ণ যৌবন ফিরে পায়।

বরিশালের সেরা দর্শনীয় স্থানসমূহ
১. সাতলা শাপলা গ্রাম (লাল শাপলার রাজত্ব): বরিশাল সদর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে উজিরপুর উপজেলার সাতলা গ্রাম। এটিকে বাংলাদেশের শাপলার রাজধানী বলা হয়। শত শত একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই বিলে যখন লাল শাপলা ফোটে, তখন মনে হয় যেন লাল গালিচা বিছিয়ে রাখা হয়েছে। শীতের ভোরে যখন কুয়াশার চাদর সরিয়ে সূর্য ওঠে, তখন শাপলাগুলোর ওপর ভোরের আলোর প্রতিফলন এক অপার্থিব দৃশ্যের অবতারণা করে। শাপলা বিল দেখতে হলে আপনাকে অবশ্যই খুব ভোরে (সকাল ৬টা থেকে ৮টার মধ্যে) পৌঁছাতে হবে।

২. গুঠিয়া মসজিদ (বাইতুল আমান জামে মসজিদ): স্থাপত্যশৈলীর এক অনন্য নিদর্শন হলো গুঠিয়া মসজিদ। এই মসজিদের বিশেষত্ব হলো এর ২০টি মিনার এবং বিশাল কমপ্লেক্স। মসজিদটি নির্মাণে মধ্যপ্রাচ্যের স্থাপত্যশৈলী অনুসরণ করা হয়েছে এবং বলা হয় এর নির্মাণে মক্কা ও মদিনার পবিত্র মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। ১৯৩ ফুট উচ্চতার মিনারটি এই অঞ্চলের অন্যতম উঁচু মিনার। মসজিদের পাশেই রয়েছে একটি বিশাল পুকুর এবং সুসজ্জিত বাগান যা আপনার মন জুড়িয়ে দেবে।

৩. ভিমরুলির ভাসমান পেয়ারা বাজার: থাইল্যান্ডের ফ্লোটিং মার্কেটের কথা আমরা অনেকেই জানি, কিন্তু আমাদের দেশেই রয়েছে এমন এক নান্দনিক বাজার। ঝালকাঠির ভিমরুলিতে খালের ওপর নৌকায় বসে চাষিরা সরাসরি পেয়ারা কেনাবেচা করেন। যদিও পেয়ারার মূল সিজন বর্ষার শেষের দিকে, তবে শীতকালেও এখানে অন্যান্য স্থানীয় পণ্যের সমারোহ থাকে এবং নৌকায় করে খালের মধ্য দিয়ে ভ্রমণ এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা দেয়।

৪. ঐতিহাসিক দুর্গাসাগর দীঘি: চন্দ্রদ্বীপ রাজ্যের রাজা শিব নারায়ণ তার স্ত্রী রানী দুর্গাবতীর পানির কষ্ট লাঘব করতে ১৭৮০ সালে এই বিশাল দীঘিটি খনন করেন। ৪৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই দীঘির মাঝখানে একটি ছোট দ্বীপ বা ঢিবি রয়েছে। শীতকালে সুদূর সাইবেরিয়া থেকে আসা পরিযায়ী পাখিদের কলকাকলিতে মুখর থাকে এই দীঘি। বিকেলের সময়টা এখানে কাটানো খুবই আনন্দদায়ক।

৫. কবি জীবনানন্দ দাশের বাড়ি (ধানসিঁড়ি): প্রকৃতির কবি জীবনানন্দ দাশের স্মৃতিধন্য এই বাড়িটি বরিশাল শহরের বগুড়া রোডে অবস্থিত। কবির বসতভিটা এবং তার ব্যবহৃত বিভিন্ন নিদর্শন আপনাকে নিয়ে যাবে সেই “রূপসী বাংলা”র দিনগুলোতে। সাহিত্যপ্রেমীদের জন্য এটি একটি তীর্থস্থান।

৬. লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি ও অক্সফোর্ড মিশন চার্চ: শহরের খুব কাছেই রয়েছে প্রাচীন লাকুটিয়া জমিদার বাড়ি। কয়েকশ বছরের পুরনো এই জমিদার বাড়ির ধ্বংসাবশেষ ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এছাড়াও বরিশাল শহরে অবস্থিত অক্সফোর্ড মিশন চার্চের স্থাপত্যশৈলী নজরকাড়া। এটি এশিয়ার অন্যতম সুন্দর ও প্রাচীন গির্জাগুলোর একটি।

ঢাকা থেকে বরিশাল যাওয়ার উপায়
বরিশাল যাওয়ার জন্য আপনি সড়ক ও নৌপথ—উভয়ই বেছে নিতে পারেন।

সড়ক পথ: পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এখন সড়ক পথে বরিশাল যাওয়া খুবই সহজ ও আরামদায়ক। ঢাকার গাবতলী বা সায়েদাবাদ থেকে বাস ছাড়ে। গ্রিন লাইন, হানিফ, এনা বা শ্যামলী পরিবহনের বাসে ৩ থেকে ৪ ঘণ্টার মধ্যে বরিশাল পৌঁছানো যায়। এসি বাসের ভাড়া ৭০০-৯০০ টাকা এবং নন-এসি বাসের ভাড়া ৫০০-৬০০ টাকা।

নৌপথ (লঞ্চ ভ্রমণ): বরিশালের ভ্রমণের আসল মজা হলো লঞ্চ ভ্রমণ। ঢাকার সদরঘাট থেকে রাত ৮টা বা ৯টায় বিশাল সব বিলাসবহুল লঞ্চ বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। সুন্দরবন, সুরভী বা মানামী, প্রিন্স আওলাদসহ একাধিক বিলাসবহুল লঞ্চে কেবিনে করে যাওয়ার অভিজ্ঞতা রাজকীয়। ডেক ভাড়া ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ১০০০ টাকা এবং ডাবল কেবিন ১৮০০-২০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

কোথায় থাকবেন ও কী খাবেন?
বরিশাল শহরে থাকার জন্য অনেক উন্নত মানের হোটেল রয়েছে। সদর রোডে হোটেল গ্র্যান্ড পার্ক, হোটেল এরিনা বা সার্কিট হাউজে আপনি সাধ্যের মধ্যে থাকতে পারবেন। আর খাওয়ার কথা বললে বরিশালের ইলিশ মাছের কোনো তুলনা নেই। এছাড়া স্থানীয় দই, রসগোল্লা এবং শীতের খেজুরের রসের তৈরি পিঠা খেতে একদম ভুলবেন না।

ভ্রমণ টিপস ও সতর্কতা
১. শাপলা বিল বা ভাসমান বাজারে যাওয়ার জন্য স্থানীয় ট্রলার বা নৌকা ভাড়া করার আগে দামাদামি করে নিন। ২. পরিবেশ রক্ষা করুন; চিপসের প্যাকেট, প্লাস্টিকের বোতল বা ময়লা যেখানে সেখানে ফেলবেন না। ৩. জীবনানন্দ দাশের বাড়ি বা ধর্মীয় উপাসনালয়ে নীরবতা বজায় রাখুন। ৪. সাতলা শাপলা বিল দেখতে যাওয়ার জন্য বরিশাল শহর থেকে আগের রাতেই উজিরপুর বা সাতলা সংলগ্ন এলাকায় থাকা ভালো, তাহলে খুব ভোরে বিলের সৌন্দর্য দেখা যায়।

উপসংহার: বরিশাল কেবল একটি শহর নয়, এটি গ্রাম বাংলার জীবন্ত এক প্রতিচ্ছবি। আপনি যদি শান্ত প্রকৃতি, স্বচ্ছ পানির লেক আর ইতিহাসের ঘ্রাণ নিতে চান, তবে এই শীতের ছুটিতে বরিশাল আপনার সেরা গন্তব্য হতে পারে। তাহলে আর দেরি কেন? ব্যাগ গুছিয়ে আজই বেরিয়ে পড়ুন রূপসী বাংলার খোঁজে!

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১২১৩১৪১৫১৬১৭১৮
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭২৮২৯৩০৩১  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট