
এ হলো বাহাউদ্দীন। তিনি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার তৎকালীন আলিমাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারের সন্তান। পারিবারিকভাবে আভিজাত্যপূর্ণ জীবনেই তার বেড়ে ওঠা। বাবা-মায়ের সংসারের অত্যন্ত আদরের কনিষ্ঠ পুত্র ছিলেন তিনি।
এক সময় শ্রীপুরসহ পুরো মেহেন্দিগঞ্জের ক্রীড়াঙ্গনে ছিল বাহাউদ্দীনের অবাধ বিচরণ। ক্রিকেট, ফুটবল, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান কিংবা বিভিন্ন মাহফিলে ছিল তার সরব উপস্থিতি। তাকে ছাড়া তখনকার শ্রীপুর ক্রিকেট ও ফুটবল একাদশ যেন ছিল কল্পনাই করা যেত না।
ক্রিকেটে বাঁ-হাতি বোলার হিসেবে তার বলের গতি ও বাউন্স ছিল দেখার মতো। আবার ব্যাট হাতে নামলে বাঁ-হাতের নিখুঁত স্ট্রোকে একের পর এক ছক্কা হাঁকিয়ে মাতিয়ে তুলতেন মাঠ। পাতাবুনিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তার খেলা আজও অনেক ক্রিকেটপ্রেমীর চোখে ভাসে। তার ছক্কাগুলো তখন দর্শকদের হৃদয়ে ঝড় তুলত এবং দলকে এনে দিত কাঙ্ক্ষিত জয়।
কিন্তু সময় বড়ই নির্মম ও নির্দয়।
এক সময় পুরো এলাকা বা অঞ্চল কাঁপানো সেই বাহাউদ্দীন আজ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে ভগ্ন শরীর নিয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
আজ প্রশ্ন জাগে—
কোথায় তার সেই সোনালি অতীত?
কোথায় তার উজ্জ্বল দিনগুলো?
কোথায় তার স্বপ্নে বাঁধা সংসার?
বিধাতার এই নীলাখেলা বোঝা সত্যিই বড় দায়। বর্তমানে বাহাউদ্দীন কেবল রক্ত-মাংসে মানুষ; কিন্তু মেধা, মনন এমনকি মস্তিষ্কের অন্তঃস্বর যেন শূন্য। এই বাস্তবতা তার পরিবার, সহযোদ্ধা ও এলাকাবাসীর জন্য চরম বেদনাদায়ক।
প্রার্থনা
মহাবিশ্বের মহান অধিপতির কাছে একটাই আকুতি—
মা, বাবা ও ভাই-বোনের বাহাউদ্দীনকে আবার ফিরিয়ে দিন, যেমনটা তারা চায়।
সবসময় ভালো থাকুক মেহেন্দিগঞ্জের সকলের পরিচিত ও প্রিয় ভ্রাতা বাহাউদ্দীন।
লেখক:
শাহিদ আফ্রিদি নোমান
বাহাউদ্দীনের সাবেক ক্রিকেট সহ-যোদ্ধা
আলিমাবাদ ইউনিয়ন, মেহেন্দিগঞ্জ