
মেহেন্দিগঞ্জের ৫নং সদর ইউনিয়নের এক নির্জন কোণে বসবাস করছেন প্রায় ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা নারী। সমাজে হয়তো অনেক কষ্টের মানুষ আছেন, কিন্তু তার জীবনের গল্প যেন কষ্টের থেকেও বেশি এক নিঃসঙ্গতার প্রতিচ্ছবি।
যে বয়সে মানুষের উচিত শান্তি, স্বস্তি আরাম-আয়েশে দিন কাটানো, সেই বয়সে তিনি ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। নেই ছেলে, নেই মেয়ে—একেবারে একা। জীবনে নেই কোনো আপনজনের সান্ত্বনা, নেই পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ।
আছে শুধু ভাঙা-চোরা একটি ঘর, যার টিনের ছাউনি অনেক আগেই ক্ষয়ে গেছে। ফ্যান নেই, বিদ্যুতের সংযোগও নেই। আধুনিক ডিজিটাল যুগে থেকেও তিনি যেন অন্ধকার এক কবরে জীবনযাপন করছেন।
দিন কাটে মানুষের দুয়ারে দুয়ারে গিয়ে সাহায্য চেয়ে। কখনো এক মুঠো ভাত, কখনো এক টাকার দয়া—এই সামান্য সাহায্যই তার বেঁচে থাকার অবলম্বন। অথচ তিনি সমাজেরই একজন, যাকে আজ ভুলে গেছে সকলে।

এমন এক জীবন আমাদের মনে প্রশ্ন জাগায়—মানবিকতার জায়গা কোথায়? সমাজের চোখ এড়িয়ে এভাবে কত মানুষ যে দুঃখে দিন কাটাচ্ছেন, তার কোনো হিসাব নেই।
এই বৃদ্ধার গল্প কেবল একজন মানুষের দুর্দশার চিত্র নয়, বরং আমাদের মানবিক দায়িত্বের প্রতিচ্ছবি। তাকে ঘিরে যদি সমাজ এগিয়ে আসে, তবে হয়তো অন্ধকার জীবনে একটুখানি আলো পৌঁছানো সম্ভব।