
মেহেন্দিগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি দাবি পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোল উলানিয়া কালিগঞ্জ ঘাট।
“মেহেন্দিগঞ্জ সচেতন নাগরিকবৃন্দ” টিমের নিরলস প্রচেষ্টায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে নতুন পন্টুন/যাত্রী ছাউনি উলানিয়া কালিগঞ্জ ঘাটে আসছে। ইতোমধ্যে পন্টুনটি ঘাটে পৌঁছে গেছে বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে তায়েম আহমেদ তাজের মাধ্যমে ডাকযোগে পাঠানো চিঠিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি কমবে এবং নদীপথে চলাচল হবে আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়—এমনটাই আশা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, “মেহেন্দিগঞ্জ সচেতন নাগরিকবৃন্দ” টিমের একঝাঁক তরুণ দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মেহেন্দিগঞ্জবাসীর কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন, টাওয়ারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান, রাস্তাঘাট সংস্কার, মেহেন্দিগঞ্জ–হিজলা সেতু সংযোগ, নদীভাঙন রোধ এবং নদীপথে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে তারা ধারাবাহিকভাবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।
টিমের সদস্যরা জানান, তাদের কিছু দাবিতে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে এবং বাকি বিষয়গুলো বাস্তবায়নে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আরও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, আগামী সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী যে দল থেকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হোন না কেন, তিনি যেন “মেহেন্দিগঞ্জ সচেতন নাগরিকবৃন্দ” টিমের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে সহযোগিতা করেন।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নিঃস্বার্থভাবে শ্রম ও সময় দিয়ে মেহেন্দিগঞ্জবাসীর পাশে থাকা এই টিমের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—নিরাপদ নৌপথ আন্দোলনের সহ-মুখপাত্র মেহেন্দিগঞ্জের কৃতি সন্তান মুহাম্মদ তায়েম আহমেদ তাজ,মোঃ বিল্লাল হোসেন, রাকিব হোসেন, মোঃ সোহান, সাইফুল ইসলাম, সৈয়দ সাত্তাজ, মুহাম্মদ ইব্রাহিম খলিল, মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন মাহির, কবির হোসেন, রাজু আহমেদ, খায়রুল ইসলাম, সেলিম হোসেন, দিলসাদুর রহমান দিপ্ত, জাহিদ হাসান সানি, বশির হোসেন, বেল্লাল জামিল, সাকিব, আবু বকর ছিদ্দিক আবুকসহ আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবী।
কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, ভবিষ্যতে উলানিয়া কালিগঞ্জ ঘাটে আরও বড় ও আধুনিক পন্টুন/যাত্রী ছাউনি স্থাপন করা হবে। সেখানে যাত্রীদের জন্য বসার ব্যবস্থা, বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা এবং ওয়াশরুম সংযুক্ত থাকবে।
মেহেন্দিগঞ্জবাসীর স্বার্থে এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তরুণদের এই সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রমাণ করে—ইচ্ছা থাকলে নাগরিক উদ্যোগেই বদলে যেতে পারে একটি জনপদের চিত্র।