সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় উলানিয়ার রাকিবের মৃত্যু: তিন যমজ সন্তানকে নিয়ে দিশেহারা স্ত্রী

লেখক:
প্রকাশ: ১ মাস আগে

নিজস্ব প্রতিবেদক | উলানিয়া

সৌদি আরবে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মেহেন্দীগঞ্জের উলানিয়া ইউনিয়নের হর্ণি গ্রামের কৃতি সন্তান রাকিব (৩০)। তার অকাল মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। প্রিয়জনকে হারিয়ে রাকিবের বাড়িতে এখন কেবলই আহাজারি আর শোকের মাতম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে একই এলাকার কেয়া বেগমের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রাকিব। তাদের দাম্পত্য জীবনে আলো ফুটিয়ে জন্ম নেয় তিন যমজ সন্তান—আয়ান, আরিয়ান ও আরাফ। বর্তমানে যাদের প্রত্যেকের বয়স মাত্র ৫ বছর। সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ আর পরিবারের সচ্ছলতার স্বপ্ন নিয়ে মাত্র দেড় বছর আগে বুক ভরা আশা নিয়ে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু একটি মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার প্রাণ, সেই সাথে তছনছ করে দিল একটি সুখী পরিবারকে।

সরেজমিনে রাকিবের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বামী হারানোর শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন স্ত্রী কেয়া বেগম। তার গগনবিদারী আর্তনাদে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। ডুকরে ডুকরে কেঁদে তিনি বলছেন, “রাকিব মারা যেতে পারে না, ও মরেনি। আমি ওর সাথে কথা বলতে চাই, আপনারা ওকে এনে দিন।” তার এই বুকফাটা আহাজারি দেখে প্রতিবেশীরাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না।

বাবার মৃত্যু কী, তা বোঝার বয়স এখনও হয়নি ছোট ছোট তিন সন্তানের। অবুঝ শিশুগুলো ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে দেখছে মায়ের কান্না আর মানুষের ভিড়। তারা জানে না যে, তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি খাটা বাবা আর কোনোদিন ফিরে আসবেন না।

রাকিবের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নেমে এসেছে বিষণ্ণতা। স্থানীয়রা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকারের কাছে দাবি তুলেছেন, যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাকিবের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।