প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বরিশাল-৪ (মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা) আসনের সাংসদ রাজিব আহসানের কাছে মেহেন্দিগঞ্জবাসীর সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা—ভয়াবহ নদীভাঙন থেকে স্থায়ী মুক্তি।
বর্তমানে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪২ কিলোমিটার এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের কবলে রয়েছে।
উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রতিটিই কোনো না কোনোভাবে নদীভাঙনের শিকার। বছরের পর বছর ধরে নদীভাঙনের ফলে হাজারো পরিবার হারিয়েছে বসতভিটা, ফসলি জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাজার ও ধর্মীয় স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই নদীর তীব্র স্রোতে নতুন নতুন এলাকা বিলীন হয়ে যায়। অনেক এলাকায় একাধিকবার ভাঙন দেখা দিলেও স্থায়ী ও টেকসই কোনো প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনো গড়ে ওঠেনি। অস্থায়ী জিও ব্যাগ বা বালুর বস্তা দিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ করা হলেও তা দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হচ্ছে না।
এদিকে সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বেড়েছে। বর্ষা শুরুর আগেই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তাই প্রতিমন্ত্রীর কাছে এলাকাবাসীর চাওয়া-পাওয়া একটাই—নদীভাঙন রোধে দ্রুত টেকসই ও স্থায়ী প্রকল্প বাস্তবায়ন।
উল্লেখ্য, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রাজিব আহসান নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এই তিনটি মন্ত্রণালয়ই নদী ব্যবস্থাপনা, নৌপথ উন্নয়ন, সেতু ও অবকাঠামো নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। ফলে মেহেন্দিগঞ্জের দীর্ঘদিনের নদীভাঙন সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের বাস্তব সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মতে, মেহেন্দিগঞ্জের নদীভাঙন শুধু একটি এলাকার সমস্যা নয়—এটি একটি বড় মানবিক ও উন্নয়ন সংকট। প্রতিমন্ত্রীর নেতৃত্বে যদি এই তিন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়, তবে নদীভাঙন রোধে স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে।
বর্ষা শুরুর আগেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হাজারো পরিবারকে রক্ষা করা যাবে—এই প্রত্যাশায় দিন গুনছেন নদীপাড়ের অসহায় মানুষ।