বিয়ের মাত্র তিন মাস পর এক নববধূ সন্তান প্রসব করেছেন। স্বামীর ভয়ে জন্মের পর পরই জীবিত নবজাতককে টয়লেটে রেখে আসেন মা।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫নম্বর সাদেকপুর গ্রামে এমন লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে।
বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। সন্তান জন্ম দেওয়া নববধূ উপজেলার সদর ইউনিয়নের সাদেকপুর গ্রামের বাসিন্দা।
রবিবার গভীর রাতে ছেলে সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই লোকচক্ষু অন্তরালে রাতেই একটি তোয়ালে পেঁচিয়ে প্রতিবেশীর বাড়ির টয়লেটে রেখে আসেন মা।
সোমবার ভোরে স্থানীয়রা নবজাতককে উদ্ধার করে। সংবাদ পেয়ে উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মিরাজ আহমেদসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যান।
এদিন বিকালে সমাজ সেবা কর্মকর্তার উদ্যোগে শিশুটিকে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নবজাতকটিকে চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে হাসপাতালেই রাখেন। পরবর্তীতে সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে খবর প্রকাশের পর শিশুটি দত্তক নিতে অনেকেই এগিয়ে আসেন। বর্তমানে শিশুটির শারীরিক অবস্থা ভালো আছে।
প্রথমে এই ঘটনায় নবজাতকের পিতা-মাতার পরিচয় জানা না গেলেও পরবর্তীতে জানতে পারেন পার্শ্ববর্তী বাড়ির জাকিয়া নামে এক নববধূর সন্তান। শিশুটি স্থানীয় আ. মতিন হাওলাদার নামে স্থানীয় এক বাসিন্দার জিম্মায় রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী আ. মতিন হাওলাদার বলেন, “ঘটনার দিন ফজরের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বাহিরে বের হয়ে অজু করতে পুকুরের ঘাটে যাওয়ার সময় টয়লেটের ভিতর থেকে কান্নার শব্দ পাই। প্রথমে ভেবেছিলাম বিড়ালের বাচ্চা। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখি তোয়ালে পেঁচানো নবজাতক কান্না করছে।”
তোয়ালেসহ শিশুটি কোলে তুলে নিতে গিয়ে হাতের থেকে পড়ে যায়। পরে শিশুটি তুলে নিজের ঘরে নিয়ে আসি। শিশুটি দেখে আমার ছেলে ও পুত্রবধূ রেখে দিতে চাচ্ছে। এছাড়াও আরও একাধিক ব্যক্তি নেওয়ার জন্য অনুরোধ করছে বলেও জানান তিনি।
নবজাতকের নানী বলেন, “আমার মেয়ের বিয়ে হয়েছে ৪ মাস আগে। সন্তান জন্মের কথা শুনলে জামাই আমার মেয়েকে নিবে না। তার সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে এই কাজ করছে।”
অভিযুক্ত মা জাকিয়া বেগম বলেন, “আমার স্বামী এবং সংসার ভেঙে যাওয়ার ভয়ে সন্তান জন্মের পর পরই নিজ হাতে টয়লেটে রেখে এসেছি। আপনারা সন্তানটি কাউকে পালতে দেন। সন্তান রেখে আসতে মায়া লাগলেও কিছুই করার ছিল না। তার এই দুর্ঘটনার জন্য আপন মামাতো ভাই জিসান দায়ী। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক তাকে বেশ কয়েকবার ধর্ষণ করেন মামাতো ভাই জিসান।”
অভিযুক্ত জিসানের বাবা ইউনুস জমাদ্দার বলেন, “তার ছেলে যদি এই ঘটনার জন্য দায়ী হয়ে থাকেন, তাহলে নবজাতকের পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ টেস্ট করা হোক। যদি পজিটিভ আসে তাহলে সে মেনে নিবে।”
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি ফখরুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয় আ. মতিন হাওলাদারের সংবাদের ভিত্তিতে সমাজ সেবা অফিসারসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হয়। আপাতত শিশুটি আ. মতিন হাওলাদারের জিম্মায় আছে।”